০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

মোটরসাইকেল চালকদের জন্য আসছে নতুন ‘ট্যাক্স’, সিসিভেদে বছরে গুনতে হতে পারে ১০ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপলোড সময় : ১৩-০৫-২০২৬
মোটরসাইকেল চালকদের জন্য আসছে নতুন ‘ট্যাক্স’, সিসিভেদে বছরে গুনতে হতে পারে ১০ হাজার টাকা ফাইল ছবি
দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের ওপর নতুন করে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আরোপের পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সিসি (ইঞ্জিন ক্ষমতা) অনুযায়ী মোটরসাইকেলের ওপর বছরে ২ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, করজালের পরিধি বাড়ানো এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। তবে ছোট ইঞ্জিন ক্ষমতার মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের স্বস্তি দিতে ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলকে এই করের আওতামুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এনবিআরের খসড়া প্রস্তাবনা অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন ক্ষমতা যত বেশি হবে, করের পরিমাণও তত বাড়বে।

প্রস্তাবিত বার্ষিক অগ্রিম আয়করের হার:

* ১১০ সিসি পর্যন্ত: কোনো অগ্রিম আয়কর নেই
* ১১১ থেকে ১২৫ সিসি: ২,০০০ টাকা
* ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসি: ৫,০০০ টাকা
* ১৬৫ সিসির বেশি: ১০,০০০ টাকা

বর্তমান আয়কর আইন অনুযায়ী, মোটরসাইকেল মালিকরা পরিশোধিত এই অগ্রিম আয়কর বার্ষিক আয়কর রিটার্নের সঙ্গে সমন্বয় করার সুযোগ পাবেন। একই সুবিধা ব্যাটারিচালিত রিকশার মালিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

বর্তমানে মোটরসাইকেল মালিকদের নিবন্ধন ফি এবং নির্ধারিত রোড ট্যাক্স ছাড়া অতিরিক্ত কোনো অগ্রিম আয়কর দিতে হয় না।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী:

* ৫০ থেকে ১২৫ সিসি মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি ৯ হাজার ২৯১ টাকা। পরে প্রতি দুই বছর পরপর ১ হাজার ১৫০ টাকা করে চার কিস্তিতে মোট ৪ হাজার ৬০০ টাকা রোড ট্যাক্স দিতে হয়।
* ১২৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি ১১ হাজার ৭৬৪ টাকা এবং প্রতি দুই বছর পরপর ২ হাজার ৩০০ টাকা করে মোট ৯ হাজার ২০০ টাকা রোড ট্যাক্স পরিশোধ করতে হয়।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৮০টি। এত বিপুল সংখ্যক মোটরসাইকেল করের আওতায় এলে সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হাদিউজ্জামান বলেন, “সড়ক আইনে মোটরসাইকেল একটি বৈধ বাহন। তাই অন্যান্য যানবাহনের মতো এর ওপরও অগ্রিম আয়কর আরোপ করা যৌক্তিক। বর্তমানে রাইড শেয়ারিং ও ডেলিভারি সেবায় বাণিজ্যিকভাবেও মোটরসাইকেল ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে এই সিদ্ধান্ত করজাল সম্প্রসারণে সহায়ক হবে এবং নিয়মিত করদাতাদের ওপর চাপ কিছুটা কমাবে।”

আগামী জাতীয় বাজেট ঘোষণার সময় এই প্রস্তাব চূড়ান্ত রূপ পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিউজ বিডি/খ.আ


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ